ভালবাসার মায়াজাল

ভালোবাসার মায়াজালে
জীবন থেকে একেকটা দিন চলে যায়। রেখে যায় তারিখ নামক কিছু সংখ্যা। ফিরে তাকিয়ে হিসেব করি, কতটা বছর পাড়ি দেওয়া হলো! আর কতটাই-বা বাকি আছে! মুহূর্তরা আসে, যায়-কখনো আনন্দের মোড়কে, কখনো আফসোস আর বিষণ্ণতার বার্তা নিয়ে। এভাবেই সময় কেটে যায়। নিস্তরঙ্গ জীবনে কখনো-বা আবেগের জোয়ার আসে মনে। বলে ফেলি, ‘হায়! সাহাবিদের যুগে জন্মাতাম যদি!’
তাই কি কখনো হয়? সাহাবিদের যুগে জন্ম-সে কি আর সম্ভব! তবু এ প্রত্যাশা বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়াই সিরাতের পাতায় পাতায়। নাই-বা হলাম তাদের সাথি, তাদের চিনে নিতে, জেনে নিতে তো বাধা নেই। জানতে গিয়ে ভালোবেসেছি উমারের ন্যায়পরায়ণতা, সিদ্দিকের কোমলতা, আলির প্রজ্ঞা, উসমানের বিচ্ছুরিত নূর আর বিলালের সুললিত কণ্ঠস্বর। রাযিয়াল্লাহু আনহুম।
শুধুই কি তা-ই? সে সময়ের মহীয়সী সব নারী সাহাবির কথাই-বা ভুলি কী করে! তাদের জীবনও যে প্রজ্বলিত নক্ষত্রের মতো আলো ছড়ায়। তাদের জীবনী যদি গভীরভাবে দেখতাম, তাহলে হয়তো আমূল বদলে যেতাম আমরা। প্রতিটি মুসলিম নারী হতাম এক-একজন নারী সাহাবিদের মতো।
আজ তেমনই এক নক্ষত্রের ন্যায় নারী সাহাবির গল্প বলব। বলব এক অনুগত কন্যার কথা।
ছোটবেলায় বাবার সাথে আমাদের সম্পর্কটা কেমন ছিল মনে আছে? বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরলেই সালাম জানাতে দৌড়ে যেতাম। হাতের তালুতে চুমু এঁকে দিতেন তিনি। কোলে নিয়ে মুখে মিষ্টি তুলে দিতেন। অপলক তাকিয়ে দেখতেন মেয়ে তার মিষ্টি খাচ্ছে। গভীর মমতায় মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন, মুচকি হাসতেন। কালের পরিক্রমায় আমরা বেড়ে উঠেছি। বাবার স্নেহ ভালোবাসার রূপ বদলেছে। মূলটাও কি বদলেছে? নিশ্চয়ই না!
যে নারী সাহাবির গল্প বলব, তিনিও ছিলেন পিতার স্নেহ আর ভালোবাসায় ধন্য। তিনি হলেন আসমা বিনতু আবি বকর। হিজরতের সময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর পিতা আবু বকর লুকিয়ে ছিলেন সাওর পর্বতে। সে সময় তাদের জন্য পাথেয় বহন করে নিয়ে যেতেন আসমা। শত্রু আবু জাহল আসমার পিতা আর নবিজির অবস্থান জানতে মরিয়া তখন। আসমাকে জেরার মুখোমুখি হতে হলো। কিছুই বলেননি তিনি। ছিলেন হকের পথে অবিচল, অটল। জিজ্ঞাসাবাদ নীরবেই পার করে দিয়েছিলেন। আর তাই তো আবু জাহল রেগে চলে গিয়েছিল, সজোরে থাপ্পড় বসিয়েছিল আসমার গালে।
কী চমৎকারভাবেই না আসমা তার বাবার গোপনীয়তা রক্ষা করে গেছেন! আমরা মেয়েরা যখন সন্তানের ভূমিকায়, তখন তিনি হতে পারেন আমাদের আদর্শ। কষ্ট সইতে হলে সইব, ঠিক আসমা বিনতু আবি বকরের মতো। তবু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেকে হিফাযত করে চলব। অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখব, পবিত্র রাখব। ‘ভালোবাসা’র নামে ছেলেরা যে মিথ্যে বন্ধুত্বের হাতছানি দেয় তা থেকে সাবধান হব।
এভাবে একদিন দেখব-বাবার কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা কতটা বেড়ে গেছে। এমনকি বেড়ে গেছে আল্লাহর প্রতিদানও। আমরা হয়ত জানবও না, পিতার আনুগত্যে পরম করুণাময় আমাদের ভালোবাসতে শুরু করেছেন, ফেরেশতারাও ভালোবাসতে শুরু করেছেন তাঁরই ইশারায়। তাই বলছি, এদিক-সেদিক থেকে যত ফিতনাই ধেয়ে আসুক না কেন, আমাদের দৃঢ় থাকা চাই। যুগ তার আঘাতে আঘাতে জর্জরিত করে দিলেও আমাদের আসমা হয়ে থাকা চাই।
সেই আসমা, যে আসমা শুধু পিতার অনুগতই ছিলেন না, বিয়ের পর জীবনসঙ্গীর প্রেমেও মশগুল ছিলেন। তার হৃদয়-মন জানতে পেরেছিল প্রকৃত ভালোবাসার অর্থ।
স্বামী যুবাইর ইবনুল আওয়ামকে ভালোবেসেছিলেন তিনি। অথচ যুবাইর ছিলেন দরিদ্র। তার ছিল একটি মাত্র ঘোড়া। আসমা ধৈর্য ধরে তা মেনে নিয়েছিলেন। ঘোড়ার দেখভাল করতেন। পানি বয়ে আনতেন। খেজুরের বীচি পিষতেন। সব ওই এক কারণে-আসমা ভালোবাসতেন তাকে। কোনোকিছু চাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ছিল না তার। তিনি ছিলেন উত্তম সহযোগী, প্রেমময়ী বিনম্র স্ত্রী। জীবিকার কষ্ট ও তীব্র বঞ্চনার মাঝেও ধৈর্যধারণকারী। আল্লাহ তাদের ওপর বর্ষণ করেছিলেন নিআমতের ফল্গুধারা।
আমাদের এমনই হওয়া চাই! যখন জীবনে একজন নেককার স্বামী আসবে, আমাদেরও নেককার স্ত্রী হওয়া চাই। আমরা হব আসমার মতো
📖 জীবন যদি হত নারী সাহাবির মতো
🛒 Visit Us – www.niswatun.com